৪.১.১.১. মোজাইক অথরশিপের পক্ষে যুক্তি

 ৪.১. ওল্ড টেস্টামেন্টের লেখক 

সত্য বলতে এই অধ্যায়ের প্রধান ফোকাস হল তোরাহ—মোসেজের নামে প্রচলিত পাঁচ বই: জেনেসিস, এক্সোডাস, লেভিটিকাস, নাম্বারস, ডুটেরোনমি। 

৪.১.১. তোরাহ 

ওল্ড টেস্টামেন্টের প্রথম পাঁচ বই— আদিপুস্তক (Genesis), যাত্রাপুস্তক (Exodus), লেবীয় (Leviticus), গণনাপুস্তক (Number) ও দ্বিতীয় বিবরণকে (Deuteronomy)— একত্রে তোরাহ বলা হয়। খ্রিস্টান ট্রাডিশন অনুযায়ী এই পাঁচ বইয়ের রচয়িতা হলেন স্বয়ং ভাববাদী মোশি। ইহুদি-খ্রিস্টান ট্রাডিশন অনুযায়ী তোরাহর পাঁচটি বই মরুপ্রান্তরে ঘুরতে থাকা অবস্থায় চল্লিশ সাল ধরে মোশি লিপিবদ্ধ করেন। তবে মতভেদ আছে শেষ বইয়ের শেষ কয়েক শ্লোকের লেখক মোশি কি না তা নিয়ে। এই আলোচনা পরে আসবে। যাহোক, তো লেখক কি মোশি? ইহুদি-খ্রিস্টানদের জন্য উত্তর হল অবশ্যই হ্যা। কিন্তু তাদের এই উত্তরের পক্ষে একটাও [শক্তিশালী] প্রমান নেই। না, খ্রিস্টানরা মোশিকে লেখক প্রমানের জন্য বহুত যুক্তি নিয়ে আসেন। এমন তো না তাদের বলার জন্য কথার অভাব। মোশির পক্ষে যে প্রমান টানা হয় সেগুলোর খন্ডন করা হবে পরের অনুচ্ছেদে।   

ইহুদি-খ্রিস্টান ট্রাডিশন অনুযায়ী তোরাতের রচয়িতা হলেন স্বয়ং ভাববাদী মোশি। অথচ বাস্তবে এমন কোন ইন্টার্নাল কিংবা এক্সটার্নাল প্রমান নেই যা থেকে এই সিদ্ধান্তে আসা যায় যে তোরাতের রচয়িতা মোশি। বরং মোশি তো দূরে থাকা মোশির সমসাময়িক কারো পক্ষেই তোরাতের রচয়িতা হওয়া সম্ভব না। তোরাতের বইগুলো-

- ইস্রায়েলীয় রাজাদের [অমুক খ্রিস্টাব্দ] শাসনামলে লেখা হয়েছে

- একই বই ভিন্ন ভিন্ন ডকুমেন্টস থেকে কপি পেস্ট করা হয়েছে 

প্রথমে মোশিকে লেখক দাবী করার পক্ষে ইহুদি-খ্রিষ্টান আর্গুমেন্টগুলোর খন্ডন করা হবে। তারপরে মোশির রচয়িতা হওয়ার বিপক্ষে আর্গুমেন্ট আনা হবে। তোরাতের লেখক প্রমানের দায় (burden of proof) খ্রিস্টানদের উপরে। যখন তারা তাতে ব্যর্থ হয় তখন মোশির লেখক হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আমরা স্রেইফ জানি না যে এর লেখক কে। হতে পারে মোশি কিংবা অন্য কেউ। কিন্তু বিপক্ষে দেওয়া আর্গুমেন্টগুলো অবজেক্টিভভাবে প্রমান করে যে মোশি লেখক না। হতে পারে না। 

৪.১.১.১. তোরাহের মোজাইক অথরশিপের পক্ষে যুক্তি

মেইনস্ট্রিম স্কলারশিপে মোসেজকে তোরাতের লেখক মনে করা না হলেও ইভেঞ্জেলিকাল ফান্ডামেন্টালিস্ট খ্রিস্টান আর ইহুদীদের কাছে স্বয়ং মোসেজই তোরাহের লেখক। যেমন গ্লিসন আর্চারের মতে পেন্টাটুয়েকের লেখক হলেন মোসেজ। [Gleason L. Archer, A Survey of Old Testament: Introduction, rev ed (Chicago: Moody Bible Institute of Chicago, ২০০৭), ৮৯-৯৪ and passim] 

অন্যদিকে ইহুদি ধর্মেও মোসেজকেই তোরাতের লেখক দাবী করা হয়েছে। ব্যাবিলন তালমুদ (tractate Baba Bathra (১৪b-১৫a)) এ মোসেজকে পেন্টাটুয়েকের লেখক বলা হয়েছে। শুধুমাত্র শেষের ৮ শ্লোকের লেখক হলেন যোশুয়া। একই দাবী আছে ফিলো অফ আলেকজান্দ্রিয়া (মৃ ৫০ খ্রি), যোসেফাস (মৃ ১০০ খ্রি), ক্লেমেন্ট অফ আলেকজান্দ্রিয়া ( মৃ ২১৫ খ্রি) ও একই আক্বিদা বিশ্বাস রাখতেন। মিশনাহ অনুযায়ী জুদাইজমের এসেন্সিয়াল বিশ্বাস হল তোরাতের পাঠ (text) স্বয়ং ইশ্বর মোসেজকে দিয়েছিলেন চল্লিশ সাল ধরে আর মোসেজ প্রতিটি পাঠ লেখেছেন তোরাতে। 

.

***

তোরাতের লেখকের পরিচয় একাধিকভাবে জানা যেতে পারে। যেমন: 

(ক) বইয়ে লেখকের পরিচয় সরাসরি উল্লেখ থাকা। এটি ইন্টার্নাল প্রমান। 

(খ) সমসাময়িক অন্য সোর্সে লেখকের পরিচয় উল্লেখ থাকা। এক্সটার্নাল প্রমান। 

(গ) সুপারন্যাচারাল মাধ্যমে জানা যায়। যেমন: ইশ্বরের ওয়াহীর মাধ্যমে অতীতের ঘটনার সত্যায়ন করা। এই ক্রাইটেরিয়া কিন্তু নাস্তিকদের (ফিলোসোফিকাল ন্যাচারালিস্ট) কাছে মূল্যহীন। উনারা যেহেতু মিরাকেল, ইশ্বর ইত্যাদিতে বিশ্বাসী না। কিন্তু যেহেতু মুসলিমরা খ্রিস্টানদের মতই সুপারন্যাচারালিস্ট তাই এই ক্রাইটেরিয়া মাথায় রাখা উচিত। 

উপরের প্রতিটি ধরনের প্লাস-মাইনাস আছে। যেমন: কোন বইয়ে লেখক হিসাবে কাউকে দাবী করা হলেই তিনি লেখক হয়ে যান না। আবার কোন বইয়ের জন্য চেইন অব ন্যারেশন অস্তিত্বে থাকার অর্থ সেটা নির্ভুল, অকৃত্রিম হয়ে যায় না। পরবর্তী কারো বানানো হতেই পারে। এরকম অনেক পয়েন্ট আছে প্রতি ধরনের প্রমানের জন্য। যেগুলো নিচে খ্রিস্টানদের যুক্তি খন্ডনের সময়ে আলোচনা করা হবে প্রয়োজন অনুযায়ী। 

Biblical Testimony to Mosaic Authorship

প্রথমেই গ্লিসন আর্চারের একটা মিথ্যা দাবীর উদ্ধৃতি দিয়ে শুরু করি। উনি বলেনঃ 

The Pentateuch often refers to Moses as its author, beginning with Exodus 17:14: “And Yahweh said to Moses, ‘Write for me a memorial in a book … that I will utterly blot out the remembrance of Amalek.’”

আর্চার দাবী করছেন যে তোরাহতে মোসেজকে এর লেখক বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং প্রমান হিসাবে এক্সোডাস ১৭:১৪ উদ্ধৃত করেন। যেখানে ইশ্বর মোসেজকে স্রেইফ আমালেকের ধ্বংসের কথা একটা বইয়ে লিখে রাখার কথা বলা হয়েছে। এবং এই বই যে তোরাহ তার কোন প্রমান নেই। ফলে তোরাতে যে মোসেজকে তোরাতের লেখক বলে দাবী করা হয়েছে তা স্রেইফ মিথ্যা। 

Internal Evidences of Mosaic Composition

Moses’ Qualifications for Authorship of the Pentateuch

ইন্টার্নাল এভিডেন্সের মধ্যে রয়েছে তোরাতের প্যাসেজ যা থেকে দাবী করা হয় যে মোশি তোরাতের লেখক। (টাইপ-১) এরপরে তোরাতের মধ্যে থাকা বিভিন্ন ক্লু। (টাইপ-২) 

 মিশনারীদের মতে মোশির তোরাত রচনার বর্ণনা তোরাতেই রেকর্ড করা হয়েছে। তাদের ব্যবহার করা বিবলিকাল প্যাসেজগুলো হল যাত্রাপুস্তক ১৭:১৪, ২৪:৪, ৩৪:২৮, গণনাপুস্তক ৩৩:২, দ্বিতীয় বিবরণ ৩১:৯, ৩১:২২ ইত্যাদি। মিশনারীদের দাবী কতখানি শক্তিশালী তা পরীক্ষা করা যাক। 

যাত্রাপুস্তক ১৭:১৪ এর অমালেকীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিবরণ 

যাত্রাপুস্তক ২৪:৪ এর কভেনেন্টের নিয়মাবলি 

যাত্রাপুস্তক ৩৪:২৮ এর দশ আদেশাবলী

গণনাপুস্তক ৩৩:২ এর যাত্রাপথে বিরতি নেওয়ার যায়গা 

দ্বিতীয় বিবরণ ৩১:৯ এর দ্বিতীয় বিবরণীয় আইন

দ্বিতীয় বিবরণ ৩১:২২ এর মোসেজের গান 

তাওরাতে বিভিন্ন প্যাসেজে লেখা আছে যে মোশি ইশ্বরের আদেশে চল্লিশ সালে অনেক কিছু লিপিবদ্ধ করেছেন। 

এটা পয়েন্ট আসলে খ্রিস্টানদের পক্ষে না বলে আমাদের পক্ষের প্রমাণ বলা বেশি লজিকাল। এটা সত্য যে তোরাতের বিভিন্ন জায়গায় ইশ্বরের আদেশে মোশিকে বিভিন্ন আইন আর ঘটনা লিখে রাখতে দেখা যায়। অথচ এ থেকে এই সিদ্ধান্তে আসা যায় না যে তোরাতও আবশ্যই মোশির লেখা। এটা ফ্যালাসি। 

বই লেখতে হাত লাগে - মোশির হাত ছিল - মানে অবশ্যই মোশিই তোরাত লিখেছেন।

মোশি অনেক কিছু লিখেছেন - তোরাত তো কেউ না কেউ লিখেছে - মানে মোশিই নিশ্চয় তোরাত লিখেছেন। ইউরেকা!!! 

তোরাতের মধ্যে সদাপ্রভু মোশিকে ইশ্বর তার আদেশগুলো (LAW) লিখতে নির্দেশ দিয়েছেন। যা থেকে মিশনারীরা প্রমানের চেষ্টা করেন যে প্রচলিত তোরাতও তার লেখা। 

তোরাতে কোথাও বলা হয়নি মোশি এর লেখক, কিন্তু অনেক জায়গায় উল্লেখ আছে মোশি নির্দিষ্ট কিছু প্যাসেজ লিখেছিলেন। 

(ক) অমলেকীয়দের প্রতি ইশ্বরের ওয়াদা - 

অমলেকীয়দের সাথে এক যুদ্ধের পরে ইশ্বর মোসেজকে বলছেনঃ 

Exod ১৭:১৪ Then the LORD said to Moses: “Write this as a reminder in a book and recite it in the hearing of Joshua: 'I will utterly blot out the remembrance of Amalek from under heaven.'”       

এখানে মোসেজের হয়তো শুধু এই বাক্যটা লেখার কথা ছিল অথবা অমলেকীয়দের সাথে যা হয়েছিল তার সামারী লেখার কথা ছিল। 

(খ) The Covenant Collection – After the core legal section known as the Covenant Collection (Exod ২০-২৩), the narrative says,

Exod ২৪:৩ Moses came and told the people all the words of the LORD and all the ordinances… ২৩:৪ And Moses wrote down all the words of the LORD…

According to this, Moses wrote down the Covenant Collection on a scroll.

(গ) The Decalogue and the Ritual Decalogue – After the destruction of the original stone tablets (Exod ৩২), God tells Moses to cut two new tablets upon which God will write what was on the former tablets (Exod ৩৪:১-৪). Then, after a prayer from Moses (Exod ৩৪:৬-৯), God makes a covenant again with Israel, including a list of laws (Exod ৩৪:১০-২৬) which scholars refer to as the Ritual Decalogue. The text follows these laws with the following notice:

Exod ৩৪:২৭ The LORD said to Moses: “Write these words; in accordance with these words I have made a covenant with you and with Israel.” ৩৪:২৮ He was there with the LORD forty days and forty nights; he neither ate bread nor drank water. And he wrote on the tablets the words of the covenant, the ten commandments.

Although the text is a little hard to follow, it suggests that God writes the same Decalogue again on tablets, whereas Moses writes the new covenant rules, the Ritual Decalogue, perhaps on a scroll.

(ঘ) The List of Stops in the Wilderness – Numbers ৩৩ lists all the places where the Israelites stopped on their way through the wilderness. The chapter begins: 

Num ৩৩:২ Moses wrote down their starting points, stage by stage, by command of the LORD…

According to this, Moses wrote down that list of stops.

(ঙ), Haazinu – Before he dies, Moses teaches the Israelites a song and even wrote it down:

Deut ৩১:২২ That very day Moses wrote this song and taught it to the Israelites.

(চ) The Core of Deuteronomy – The closest any verse in the Pentateuch comes to stating that Moses wrote the Torah comes towards the end of Deuteronomy, which states: 

Deut ৩১:৯ Then Moses wrote down this law, and gave it to the priests, the sons of Levi, who carried the ark of the covenant of the LORD, and to all the elders of Israel.

But to what does “this law” (torah) refer? The context suggests that it refers to the core of Deuteronomy, which is introduced at the beginning of the book as “the torah.”

Deut ১:৫: Beyond the Jordan in the land of Moab, Moses undertook to expound this law as follows:

Deut ৪:৪৪: This is the law that Moses set before the Israelites.

Since chapter ৩১ is a ৩rd person account of what Moses did after he delivered the law (torah) to Israel, including the third person reference to Moses writing the law down, clearly the author of this chapter does not think that what he was writing was part of this torah or on that scroll.[২৫]

In other words, the author of Deuteronomy (not Moses) is claiming that included in his book (Deuteronomy or the Pentateuch) is the law that Moses taught to Israel and then wrote down. This is not a claim for Moses writing Deuteronomy, only for much of Deuteronomy coming from a scroll that Moses wrote.

The Torah Uses Moses' Writings

এর কোন প্যাসেজই দাবী করছে না যে মোসেজ পেন্টাটুয়েক লিখেছে। বরং এর বিপরীতে দাবী করছে মোসেজ আসলে খুবই অল্প কিছু তথ্য লিখেছে বা লিখতে আদেশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। বরং বোঝায় যাচ্ছে যে তোরাতের লেখক অন্য কেউ যে বুঝাতে চাচ্ছে তিনি মোসেজের লেখা ব্যবহার করে এই তোরাত লিখছেন। 

In short, not only do these texts not claim that Moses wrote the Pentateuch, they actually claim that Moses wrote only certain passages, and even in these narratives, Moses is referred to in the third person. The clear implication is that the author of the Pentateuch, who is emphatically not Moses, is saying that he made use of texts written by Moses, such as the Covenant Collection, the Haazinu Song, etc., and has included them in his book. But he also included texts and traditions that he does not describe as deriving from Moses, such as the quote from the book of the Wars of the Lord (Num ২১:১৩-১৫), the poem of the balladeers about Heshbon (Num ২১:২৭-৩০), Lamech's song to his wives (Gen ৪:২৩-২৪), and likely many other sources that the author makes use of but does not quote. 

টাইপ-২

এমন বিবরণ যা শুধু মোশির পক্ষেই জানা সম্ভব। 

১। তোরাতের মূল সেটিং হল মিশর আর এক্সোডাস। মোশি মিসরে জন্ম নেন, মিশরিয় ফারাওয়ের সাথে ইন্টারএক্ট করেন, পরে চল্লিশ সাল ধরে মিশর আর জর্দানের তীরের মধ্যে যাত্রা করতে থাকে। এখন যুক্তি হল, এসব বর্ণনা যদি সত্য ঘটনা থেকে এসে থাকে তবে তাহলে তোরাতে মিশরিয় নাম এবং সম্পর্কিত জায়গার নামের উল্লেখ থাকবে। এসব তথ্য স্রেইফ পরবর্তীতে কারো পক্ষে বানিয়ে বলা অসম্ভব। ফলে এখানে দুইটা সম্ভাবনা থাকে: ঘটনা ঘটার সময় প্রত্যক্ষদর্শী কেউ লিপিবদ্ধ করেছেন অথবা তখনকার ঘটনা গল্প আকারে পরবর্তীদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। 

কাউন্টারঃ এসব তথ্যের অস্তিত্ব থাকার অর্থ হল এসব বর্ণনা একটা লেভেল পর্যন্ত সত্য এবং পুরোটা মনগড়া না। বরং এগুলোর পেছনে কিছু না কিছু ঐতিহাসিক ভিত্তি আছে। কিন্তু এ থেকে এই সিদ্ধান্তে আসা যায় না যে - 

- তোরাতে থাকা বাকি তথ্যগুলোও সত্য ও গ্রহণযোগ্য। 

- মোশি: তার সমসাময়িক কেউ: প্রত্যক্ষদর্শী কেউ এই তথ্যগুলো:পুরো তোরাত লিখেছেন। 

বরং মোশি বা অন্য কোন প্রত্যক্ষদর্শীর তোরাত লেখা ছাড়াও পসিবিলিটি আছে যেগুলো বেশি গ্রহণযোগ্য আর যৌক্তিক। যেমন শুধু এসব তথ্য মোশির সময় থেকে ওরাল ট্রাডিশন বা লিখিত আকারে চলে আসতে পারে যা পরে ব্যবহার করে তোরাত লিখতে পারে। এসব তথ্য তোরাতে অন্তর্ভুক্ত থাকার জন্য মোশি বা অন্য কোন প্রত্যক্ষদর্শীকে তোরাতের লেখক হওয়া আবশ্যক না। আমি প্রত্যক্ষদর্শী না হয়েও ঘটনা "ক" সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য দিতে পারি যা কল্পনা থেকে বানিয়ে বলা সম্ভব না। কারন তথ্যগুলো আমি অন্য মাধ্যম থেকেও জেনে ব্যবহার করতে পারি।

মিশরীয় নাম আর শব্দের ব্যবহার যা সমসাময়িক না হলে জানা সম্ভব না।

তোরাতে এমন অনেক তথ্য রয়েছে যা বিবলিকাল ইজিপশিয়ান এক্সোডাস কনটেক্সট ছাড়া এসব তথ্যের উপস্থিতি ব্যাখ্যা করা সম্ভব না। এ তথ্যগুলোর উপস্থিতি থেকে খ্রিস্টান মিশনারীরা প্রমান করতে চায় মোশিই তোরাতের লেখক। কারন বিবলিকাল ন্যারেটিভ সত্য না হলে ইস্রায়েলীয়রা এসব তথ্য কল্পনাও করতে পারতো না। অথচ এই আর্গুমেন্ট মুসলিম বা অন্যান্য আস্তিকদের কাছে মূল্য রাখে না। আমরা মুসলিমরা মোশি (আ), তোরাত, এক্সোডাস ইত্যাদির অস্তিত্বে বিশ্বাস করি। আমাদের এটা মানতে সমস্যা নেই যে মোশির এসব ঘটনা বিকৃত-অবিকৃত মিশ্রভাবে গল্প আকারে প্রজন্ম ধরে প্রচলিত তোরাতের লেখক পর্যন্ত পৌছেছে। মিশনারীদের প্রেমিজগুলো প্রমান করে যে (ক) বিবলিকাল ন্যারেটিভের সম্পূর্ন মনগড়া না। বরং একটা সীমা পর্যন্ত ইতিহাসের মধ্যে এর ভিত্তি আছে। কিন্তু এ থেকে তোরাতের লেখকের পরিচয় সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া যায় না। 

.

এক্সটার্নাল এভিডেন্স

ওল্ড টেস্টামেন্টের অন্যান্য বইয়ে মোশিকে তোরাতের রচয়িতা দাবী করা হয়েছে:

অন্যান্য বইগুলো পেন্টাটুয়েকের লেখক হিসাবে মোসেজকে দাবী করেন। যোশুয়া ৮:৩১-২, ২৩:৬; ১ রাজাবলি ২:৩; ২ রাজাবলি ১৪:৬, ২৩:২৫ ইত্যাদি মোসেজের তোরাত অথবা মোসেজের তোরাতের স্ক্রল কথা বলছে। তবে এগুলো দ্বিতীয় বিবরণীর আইনের কথা বলছে, আমাদের তোরাতের কথা না। 

অনেক পরের বইগুলো যেমন Ezra (৩:২, ৬:১৮, ৭:৬) Nehemiah (১:৭-৯, ৮:১, ১৪, ৯:১৪, ১০:৩০, ১৩:১), Daniel (৯:১, ১৩), and Chronicles (২ Chron ২৩:১৮, ৩০:১৬, ৩৪:১৪) ইত্যাদি "মোসেজের তোরাত" এর কথা বলা হয়েছে অথবা তোরাতের আইনকে প্যারাফ্রেইজ করে মোসেজের আইন বলা হয়েছে। 

নিউ টেস্টামেন্টে মোশিকে তোরাতের রচয়িতা দাবী করা হয়েছে:

নিউ টেস্টামেন্টে লুক (২:২২) "মোসেজের আইন" এর কথা বলা হয়েছে। মার্কে ১২:১৯ এ "মোসেজ লেখেছেন" বলে সরাসরি দ্বিতীয় বিবরণ ২৫:৫-৬ শ্লোক উল্লেখ করা হয়েছে। 

যিশু মোশিকে তোরাতের রচয়িতা দাবী করেছেন: 

৩। যিশু মোশিকে তোরাতের লেখক মনে করতেন আর যিশু হলেন স্বয়ং ইশ্বর :ইশ্বরের ভাববাদী।